জাতীয় রাজনীতি ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার কেবিনেটের তৎকালীন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে কখনই ‘মাস্টারমাইন্ড’ (Mastermind) তকমা দেননি। রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই শব্দটা সবসময় একটি নেতিবাচক বা বাজে শব্দ হিসেবেই গণ্য হয়।
সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় অনলাইন টক-শোতে অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে ২০২৪ সালের সেই বহুল আলোচিত ঘটনা ও শব্দগত অপব্যাখ্যার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে এই মন্তব্য করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই তথ্য উপদেষ্টা।
টক-শোতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে মাহফুজ আলম বলেন, "আমরা কি কখনো বলি যে, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান একটি সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্র ছিল? এটা তৎকালীন স্বৈরশাসক আইয়ুব খান বলেছিলেন। এটা ইয়াহিয়ারা বলেছিলেন। এটা পাকিস্তানের সামরিক জান্তারা বলেছিল। ঠিক একইভাবে আজকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দল আওয়ামী লীগও এই আন্দোলনকে নিয়ে একই সুরে কথা বলছে।"
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুল ফ্রেমিংয়ের সমালোচনা করে মাহফুজ আলম বলেন, "ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাকে নিয়ে সেদিন দুটি কথা বলেছিলেন; তবে তিনি বক্তব্যের কোথাও ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। মাস্টারমাইন্ড একটি মূলত বাজে শব্দ। যেমন মানুষ সাধারণত বলে থাকে—‘হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড’? অর্থাৎ, 'মাস্টারমাইন্ড অলওয়েজ অ্যা ব্যাড ওয়ার্ড' (Mastermind always a bad word)। প্রফেসর ইউনূস এই শব্দটাই উচ্চারণ করেননি।"
তিনি আরও স্পষ্ট করে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, "আমাদের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং স্বয়ং প্রফেসর ইউনূস আমাকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যে স্টেটমেন্ট বা বক্তব্য দিয়েছিলেন; সেখানে মাস্টারমাইন্ড শব্দটির কোনো অস্তিত্বই ছিল না। স্যার খুবই ক্যাটাগরিক্যালি (সুনির্দিষ্টভাবে) আমার ক্ষেত্রে যে শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন, সেটি হলো—‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ (Brains behind)! এই ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ শব্দটি আপনি যেকোনো ওয়েস্টার্ন ডিবেট (পশ্চিমা বিতর্ক) বা পলিটিক্যাল (রাজনৈতিক) তর্কে ইতিবাচক অর্থে অনায়াসে ব্যবহার করতে পারেন।" তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মূল বিষয় হচ্ছে—এই শব্দটিকে বাংলাদেশে সম্পূর্ণ অন্যভাবে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফ্রেমিং করা হয়েছে。
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের ফাঁকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বৈশ্বিক সংগঠন ‘ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ লিডারস স্টেজ’ (CGI) অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মূলত নিউইয়র্কে আয়োজিত সেই আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চে তিনি তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিবর্তন নিয়ে নানা বিষয়ে কথা বলেন। আলোচনার এক ফাঁকে ড. ইউনূস তার বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সফরসঙ্গীদের মধ্য থেকে তিনজনকে মঞ্চে ডেকে বৈশ্বিক নেতাদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। সেই ঐতিহাসিক মঞ্চেই প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে সংঘটিত হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের অন্যতম প্রধান কারিগর ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে মাহফুজ আলমকে বিশ্বমঞ্চে সবার সামনে চিনে রাখার জন্য পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
| মূল বিষয় ও শব্দ | রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ফ্রেমিং |
| প্রচারিত শব্দ | ‘মাস্টারমাইন্ড’ (যা মাহফুজ আলমের মতে নেতিবাচক বা হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দ)। |
| প্রকৃত শব্দ | ড. ইউনূস মূলত ব্যবহার করেছিলেন ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ (Brains behind)। |
| ঐতিহাসিক মঞ্চ | ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, নিউইয়র্কে বিল ক্লিনটনের ‘ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ’। |
| সমালোচনার জবাব | ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানকে যেভাবে আইয়ুব-ইয়াহিয়া ষড়যন্ত্র বলেছিল, ২৪-এর আন্দোলনকেও আওয়ামী লীগ সেভাবে দেখছে। |
রাজনৈতিক প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার ও সমসাময়িক রাজনীতির সব খবরের বস্তুনিষ্ঠ আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |